ভিনদেশে দেশি সফটওয়্যারের রমরমা বাজার। তবে দেশের বেসকারি খাতে উপেক্ষিত দেশি সফটওয়ারের স্বীকৃতি।

ভিনদেশে দেশি সফটওয়্যারের রমরমা বাজার। তবে দেশের বেসকারি খাতে উপেক্ষিত দেশি সফটওয়ারের স্বীকৃতি। top 10 software development


বাংলাদেশ থেকে সফটওয়্যার রপ্তানি ক্রমাগত বাড়ছে। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে এ খাতে রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে সাত গুণ।

প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৮ সাল নাগাদ সফটওয়্যার রপ্তানি ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।



আবার স্থানীয়ভাবেও অনলাইনভিত্তিক কেনাকাটা, আবেদন-নিবন্ধন ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) পরিশোধ; বিভিন্ন ব্যাংক, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও মুঠোফোন কোম্পানির প্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত (আইটি) অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায়ও সফটওয়্যারের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।




তবে দেশি-বিদেশি বাজারের এই সম্ভাবনা ভালোভাবে কাজে লাগাতে শিগগিরই সঠিক নীতি-পরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা। সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশ থেকে বছরে ২৫ কোটি ডলারের সফটওয়্যার রপ্তানি হয়; যা ২০০৯ সালে ছিল মাত্র ৩ কোটি ২৯ লাখ ডলার।

বেসিসের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে এ খাতে কাজ করছে ৮২৩ প্রতিষ্ঠান। কর্মরত আছেন আড়াই লাখের বেশি লোক। সঠিক পরিকল্পনায় এগোতে পারলে ২০১৮ সালের মধ্যে জনবল ১০ লাখে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করেন সংগঠনটির নেতারা। সফটওয়্যারের অভ্যন্তরীণ বাজারটিও বেশ বড়, যার আকার ৪৫ থেকে ৫০ কোটি ডলার। রপ্তানি আয় যোগ করলে এ খাতের আকার এখন ৭০ কোটি ডলারের।

top 10 software development


কাজের ধরন অনুযায়ী সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলো দুই রকমের—সরাসরি সফটওয়্যার উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, যেগুলোকে বলা হয় আইটি কোম্পানি এবং সফটওয়্যার-নিয়ন্ত্রিত সেবা প্রদানকারী বা আইটিইএস কোম্পানি। বেসিসের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ৪৫ ভাগ আয় আসে সফটওয়্যার বিক্রি করে, বাকি ৫৫ ভাগ আয় আসে আইটিইএস-সংক্রান্ত সেবা থেকে।

top 10 software development

দেশি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ, আইটি-সংক্রান্ত সেবা বা আইটিইএস, ই-কমার্সভিত্তিক ওয়েবসাইট সেবা, মুঠোফোনের অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়ন, আইটি অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি সেবা দিচ্ছে।


top 10 software development

বহুজাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিয়ে

সফটওয়্যার তৈরির পাশাপাশি এখন নিজেরাও সরাসরি এ দেশে বিনিয়োগ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বখ্যাত মুঠোফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং একটি মুঠোফোন গবেষণা ইউনিট প্রতিষ্ঠা করেছে এ দেশে। এর নাম ‘স্যামসাং রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (এসআরবিডি)’।
২০১১ সালে কার্যক্রম শুরু করা স্যামসাংয়ের এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ৫০০ জন প্রকৌশলী কাজ করেন; যাঁদের বেশির ভাগই বাংলাদেশি। এ প্রতিষ্ঠান থেকে এশিয়া, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বাজারের মুঠোফোনের জন্য সফটওয়্যার উন্নয়ন করা হয়।

software-development-videoworld.com,top 10 software development company in bangladesh, best software development firm in bangladesh, datasoft systems bangladesh ltd, kaz software, software development company in dhaka bangladesh, payroll software company bangladesh, bangladesh software development (bsd), kaz software career,

software-development-videoworld.com

বাংলাদেশে কার্যক্রম চালাচ্ছে এমন আরেক প্রতিষ্ঠান মার্কিন প্রযুক্তি ও আউটসোর্সিং কোম্পানি অ্যাকসেনচার। ২০১৩ সালে দেশের শীর্ষস্থানীয় মুঠোফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান জিপিআইটির ৫১ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়ে এ দেশে কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্বের ৫৬টি দেশে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম রয়েছে। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির মোট আয়ের পরিমাণ ছিল তিন হাজার কোটি মার্কিন ডলার। প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণফোনের সব ধরনের সফটওয়্যার-সম্পর্কিত প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি নরওয়ের টেলিনর ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যারও তৈরি করছে।

পাশাপাশি ব্যবসাসংক্রান্ত বিভিন্ন আউটসোর্সিং সেবাও (বিপিও) দিচ্ছে অ্যাকসেনচার।
দেশে অনলাইনভিত্তিক কেনাকাটার প্রসারেও সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিক্রয়, এখানেই, এখনইর মতো জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টালগুলো তাদের পণ্য বিপণনে মূলত সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল।



হালের ব্যাংকিং কার্যক্রমও অনেকটা সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল। আর্থিক লেনদেন থেকে শুরু করে হিসাব খোলা, নথিপত্র সংরক্ষণসহ অনলাইন ব্যাংকিংয়ের যাবতীয় কার্যক্রম এখন নির্দিষ্ট সফটওয়্যার দিয়ে করা হচ্ছে।


দেশের সফটওয়্যার-শিল্পকে এগিয়ে নিতে ‘ওয়ান বাংলাদেশ’ কার্যক্রমের আওতায় বেসিস চারটি লক্ষ্য সামনে রেখে এখন কাজ করছে। এগুলো হলো: ২০১৮ সালের মধ্যে রপ্তানি ১০০ কোটি ডলার ও কর্মসংস্থান ১০ লাখে উন্নীত করা, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতিবছর এক কোটি করে বাড়ানো ও দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপিতে) সফটওয়্যার খাতের অবদান ১ শতাংশে নিয়ে যাওয়া।
এ জন্য সরকারের সহযোগিতায় বেশ কিছু প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে আছে সফটওয়্যার প্রযুক্তি পার্ক, হাইটেক পার্ক নির্মাণসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রকল্প। চলতি মাসেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের অধীনে ২৩ হাজার মানুষকে নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে বেসিস।

এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ৭০ শতাংশ লোককে প্রশিক্ষণ শেষে সরাসরি চাকরি পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হবে বলে জানান বেসিসের নির্বাহী পরিচালক সামি আহমেদ।


বেসিসের সভাপতি শামীম আহসান প্রথম আলোকে বলেন, সফটওয়্যার রপ্তানি বাড়াতে ও এ খাতকে এগিয়ে নিতে সবার আগে একটি যৌথ বিনিয়োগ নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন। যত দ্রুত সম্ভব সফটওয়্যার প্রযুক্তি পার্ক ও হাইটেক পার্কের কাজ শেষ করা দরকার। এতে দেশি–বিদেিশ উভয় বিনিয়োগ বাড়বে। গণিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার প্রতি জোর দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন বেসিসের সভাপতি।


বিশ্বে বর্তমানে বছরে প্রায় ২৫ হাজার কোটি ডলারের সফটওয়্যার রপ্তানির বাজার রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী ভারত একাই রপ্তানি করে আট হাজার কোটি ডলারের। শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন প্রভৃতি এশীয় দেশও এ খাত থেকে ভালো আয় করছে। বিশ্বের

সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনার ২০১১ সালে এ খাতের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ৩০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশকেও রেখেছে। বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৩০টি দেশে সফটওয়্যার সেবা রপ্তানি করে। সবচেয়ে বড় পাঁচটি বাজার হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ডেনমার্ক।



Share